সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক জেনে নিন

সবচেয়ে কম সুদে লোন দেওয়া ব্যাংকের খোঁজ করা বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। আসুন বাংলাদেশে ব্যাঙ্কিংয়ের জটিল বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু তথ্য জেনে নিই। সুদের হার বৃদ্ধি করার কারণগুলো খোঁজে বের করি, ব্যাংকগুলোর মধ্যে সুদের হারের তুলনা করি এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক সম্পর্কে জেনে নিই।

আমার আজকের লেখাটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনি সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক তা জানতে পারবেন। যারা নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য বা বাড়ি তৈরি করার জন্য, অথবা যেকোনো জরুরি কাজে ঋণ নিতে চান, তাদের জন্য সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমার এই লেখাতে শেয়ার করবো।

বাংলাদেশে সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক জানা যাক:

বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী থেকে আধুনিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যাংক রয়েছে। প্রতিটি ব্যাঙ্কের নিজস্ব নীতি, সার্ভিস এবং গুরুত্বপূর্ণভাবে, সুদের হার রয়েছে। এই জগতের নিয়ম বুঝতে পারলে যে কেউ ঋণ নিতে পারেন।

ঋণের সুদের হারকে প্রভাবিত করা ফ্যাক্টর:

সুদের জটিলতা প্রায়ই ঋণগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে। মুদ্রাস্ফীতির হার, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতিগুলোর মতো সমস্যাগুলো ব্যাঙ্কগুলোর দ্বারা নির্ধারিত সুদের হার নির্ধারণে ভূমিকা পালন করে। এই বিষয়গুলো বুঝতে পারলে যেকোনো ব্যক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো সময় ঋণ নিতে পারবেন।

ব্যাংকের সুদের হারের তুলনা করার টিপস:

সর্বনিম্ন সুদের হার অফার করে এমন ব্যাংক সনাক্ত করতে, একটি সূক্ষ্ম তুলনা করা প্রয়োজন। যারা ঋণ গ্রহণ করেন তারা কিন্তু তাড়াহুড়ো করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে একাধিক ব্যাংকের সুযোগ সুবিধা পার্থক্য করে দেখবেন।

এই টিপস অনুসরণ করলে পরবর্তী আপনার ঋণ পরিশোধ করতে সহজ হবে। সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক তা খোঁজে পেতে সময় নিয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে আলোচনা করতে পারেন। অধিক হারে ঋণ নিলে তা পরিশোধ করতে বেশি কষ্ট করতে হয়।

আরও পড়ুন:   সিটি ব্যাংক বাইক লোন ও ক্যালকুলেটর টিপস

সুদের হার দেখে সবসময় ঋণ নয়:

কম-সুদের হার লোভনীয় হলেও, সুযোগ সুবিধা জেনে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যাংক কঠোর অথচ ন্যায্য মানদণ্ড নিশ্চিত করে সেই সকল ব্যাংক থেকে শুধুমাত্র যোগ্য ব্যক্তিরা তাদের আকর্ষণীয় সুদের হার থেকে উপকৃত হতে পারে। কারণ এদের কে সঠিক সময়ে সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

সুদের হার
সুদের হার

যারা কম আয়ের মানুষ তারা এক্ষেত্রে অনেক বেশি ঋণ পরিশোধ করতে ব্যার্থ হোন। নিজের ইনকামের উপর নির্ভর করে সবসময় সঠিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হবে। আমি এবিষয়ে অনেকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি।

সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় ৩টি ব্যাংক:

এমন ৩টি ব্যাংক আপনাদের জন্য রয়েছে যারা সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয়। আমার পরিচিত অনেকেই এসব ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি তৈরি, বিদেশ যাওয়া, ব্যবসা সহ অনেকগুলো কাজ করেছেন।

আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি এখানে ৩টি ব্যাংক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো। আমাদের লেখা যারা পড়েছেন, আপনাদের জানামতে কোনো ভালো ব্যাংক থাকে, আপনারা সবার সাহায্যে জন্য কমেন্ট করে ব্যাংকের নাম জানাবেন।

চালুন আমাদের আজকের লেখার মূল বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করি। সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক? হ্যাঁ, আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এই ব্লগ পোস্ট লেখা হয়েছে।

১. AB Bank (পার্সোনাল লোন):

বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি ব্যাংক হচ্ছে AB Bank। সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয়া ব্যাংকের তালিকায় এটি রয়েছে। বিশেষ করে পার্সোনাল লোন নেওয়ার জন্য এটি বেশ ভালো একটা ব্যাংক। মাত্র ৭.৪৩% হারে এবি ব্যাংক Personal Loan দিয়ে থাকেন।

যারা ব্যবসার জন্য লোন নিতে আগ্রহী তাদের জন্যও এবি ব্যাংক সেরা। এবি ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক। আমার পছন্দের তালিকায় এটি প্রথম। যাদের কম সুদে লোনের প্রয়োজন তারা এই ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

Personal Loan এর ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই ব্যাংক ঋণ দিয়ে থাকেন। এবিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ব্যাংকে যোগাযোগ করতে পারেন। পার্সোনাল লোন ছাড়াও আরও বিভিন্ন রকমের কাজের জন্য একাধিক সুবিধা সহ এবি ব্যাংক ঋণ প্রদান করে থাকেন।

তবে ঘরো ঋণের জন্য এটি নয়। এটি যেহেতু একটা কমার্শিয়াল ব্যাংক। সুতরাং লোন নেওয়ার জন্য আপনার অবশ্যই একটা গ্রহণযোগ্য কারণ দেখাতে হবে।

আরও পড়ুন:   ৫টি বিশ্বস্ত টাকা ডিপোজিট করার উপায়

২. BRAC Bank (সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয়া ব্যাংক):

ঠিক AB Bank এর মতো পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই ব্যাংক লোন দিয়ে থাকেন। তবে এই ব্যাংকের সুদের হার এবি ব্যাংকের থেকে একটু বেশি। যদিও এটি সবার জন্য সহজে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকেন।

ব্রাক ব্যাংক ৯% সুদে গ্রাহকদের ঋণ দিয়ে থাকেন। সবগুলো ব্যাংক লোন প্রসেসিং ফি নিয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে ব্রাক ব্যাংকের ঋণ প্রসেসিং ফি হচ্ছে ২%।

আপনি কি কাজের জন্য ঋণ নিচ্ছেন তার উপর নির্ভর করে BRAC Bank এর লোন নেওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জমা দিতে হয়। এবিষয়ে জানতে আগ্রহী ব্যক্তিরা আমাকে কমেন্ট করুন আপনি কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চান তা জানিয়ে। কারণ সবগুলো ব্যাংক কিছু কমন তথ্য গ্রহণ করলেও কিছু ব্যাংক অতিরিক্ত তথ্য নিয়ে থাকেন।

কোন ব্যাংক কি ধরনের তথ্য জমা নিয়ে থাকেন, তা নিয়ে আমি আরও বেশকিছু পোস্ট করবো। আমাদের ব্লগ নিয়মিত ভিজিট করলে এবিষয়ে জানতে পারবেন।

৩. Basic Bank

৮% এর কম সুদের হারে লোন দেওয়া ব্যাংকের মধ্যে Basic Bank একটি। আপনার যদি ব্যক্তিগত লোনের প্রয়োজন হয়, তাহলে বেসিক ব্যাংক আপনার জন্য খারাপ না।

নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে, পুরাতন ঘরবাড়ি মেরামত করার জন্য, অথবা আপনার স্বপ্নের ফ্ল্যাট ক্রয়ে বেসিক ব্যাংক আছে আপনার পাশে। ছোট থেকে বড় উদ্যোক্তাদেরও কম সুদের হারে সবচেয়ে বেশি লোন দেয় এই ব্যাংক।

লোনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সহজ কি-না যাচাই করুন:

কিছু ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য অনেকগুলো ডকুমেন্টস জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে তারা কি কি ডকুমেন্টস চাচ্ছে তা যাচাই করে নিন। আপনার দেওয়া সম্ভব না, বা যদি কোনো ব্যাংক এমন তথ্য চাই যা ব্যক্তিগত সিকিউরিটি সমস্যা হবে। তাহলে কখনও এমন ব্যাংক থেকে লোন নিবেন না।

Application Process for Loans
Application Process for Loans

সবসময় সহজ হিসাবে লোন দিয়ে থাকেন এমন ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করুন। আমি উপরে যে ৩টি ব্যাংকের নাম আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। Basic Bank, BRAC Bank, AB Bank এদের কাছ থেকে সহজ শর্তে সবসময় লোন নিতে পারবেন।

সুদের হার কমানোর সুযোগ:

আপনার লোন পরিশোধ শেষ হওয়ার সাথে সাথে যেন সুদের পরিমাণ কমতে থাকে, এমন ব্যাংকের সাথে লেনদেন করুন। যেসকল ব্যাং মোটা অঙ্কের সুদ নেয় তাদের কাছ থেকে বিরত থাকুন।

আরও পড়ুন:   পেওনিয়ার বিকাশ এর সাথে লিংক করার নিয়ম

সুদ দেওয়া ও নেওয়া উভয় সমান অপরাধী। এটি হারাম কাজ। জানি না মহান আল্লাহ এর কোনো সমাধান রাখছেন কি-না। শর্তে অশর্তে আমরা সবাই সুদের সাথে জড়িয়ে পড়ছি।

মূলত আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন করে ফেলা হচ্ছে যেন সবচেয়ে ভালো ইমানদার ব্যক্তিও সুদ থেকে বাঁচতে না পারে।

সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক তা গ্রাকের কাছ থেকে জানুন:

অনেকগুলো ব্যাংক আছে লোন দেওয়ার সময় একাধিক সুবিধা দেখান। পরবর্তী সবগুলো সুবিধা উল্টো হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আপনি যে ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান, সেই ব্যাংকের পুরাতন সদস্যদের সাথে আলোচনা করে ব্যাংকের কোনো গোপনীয়তা রয়েছে কি-না তা জানতে পারবেন।

যেকোনো কাজের জন্য তাড়াহুড়ো না করে সবার মতামত নিয়ে কাজ করা উচিত। ব্যাংকের লোন নেওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের বিশেষ কোনো সমস্যা আছে কিনা দেখা উচিত।

স্বল্প সুদে ঋণের অর্থনৈতিক প্রভাব

ব্যক্তিগত সুবিধার বাইরে, কম সুদে ঋণ বৃহত্তর অর্থনীতিতে অবদান রাখে। সুদের পরিমাণ কম হলে গ্রাহক পর্যাপ্ত পরিমাণে লোন গ্রহণ করতে চান। যেসব ব্যাংক গ্রাহক ভেদে সুদের পরিমাণ নির্ধারণ করে তারা বেশি গ্রাহক পেয়ে থাকেন।

কম সুদের মাধ্যমে ব্যাংক এবং গ্রাহক উভয় লাভবান হয়ে থাকেন। কারণ এক্ষেত্রে গ্রাহক তার লোনের টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে সক্ষম হোন। সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক তা জানার জন্য যারা অনেক আগ্রহী ছিলেন আশাকরি, ইতিমধ্যেই আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

সবচেয়ে কম সুদে লোন গ্রহিতার জন্য আর্থিক শিক্ষা:

আর্থিক সাক্ষরতার সাথে ঋণগ্রহীতাদের ক্ষমতায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক জগত বোঝা ব্যক্তিদের সিদ্ধান্ত নিতে এটি ভালো সাহায্য করবে।

সবচেয়ে কম সুদে লোন দেয় কোন ব্যাংক:

বাংলাদেশে সর্বনিম্ন সুদের হারে লোন দেন, এমন ৩টি ব্যাংক সাজেস্ট করলাম। গ্রাহক সন্তুষ্টি, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং ধারাবাহিকভাবে কম সুদের হারে লোন দেন এমন ব্যাংক আমার পাঠকদের জন্য প্রয়োজন।

আপনারা নিজের ব্যবসা শুরু করার জন্য এই ৩টি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে লোন নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রয়োজন ছাড়া লোন নেওয়া অবশ্যই বোকামি। সুতরাং আপনার ব্যবসার জন্য প্রয়োজন হলে লোন নিতে পারেন।

Leave a Comment