ঘরে বসে পার্ট টাইম জব | ঘরে বসে ইনকাম করার ৫টি সুযোগ

ঘরে বসে ইনকাম করার জন্য প্রয়োজন একটি পার্ট টাইম জব। যারা ঘরে বসে ইনকাম করার আগ্রহ প্রকাশ করেন, তাদের জন্য একটি পার্টটাইম জব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে অনলাইনের মধ্যেই আপনি করতে পারেন নিজের পছন্দের যে কোন একটি পার্ট টাইম জব। বিভিন্ন সেক্টর অনুযায়ী অনলাইনে ঘরে বসেই চাকরি করা সম্ভব।

একসময় যেটা অসম্ভব ছিল সেটা এখন বর্তমান সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। অনেকগুলো সুযোগ সুবিধার সাথে অনলাইনে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার উপায় রয়েছে। চাইলে আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে পারেন, অথবা একজন ফুলটাইম অনলাইন ওয়ার্কার হতে পারেন। এমনকি আপনি চাইলে করতে পারেন একটি পার্ট টাইম চাকরি অথবা একটি ফুলটাইম চাকরি।

আজকের এই আর্টিকেলটিতে আমি আপনাদের সাথে এমন অনেকগুলো পার্ট টাইম জবের উপায় নিয়ে আলোচনা করব। যেগুলো থেকে আপনারা যেকোনো একটি বাছাই করার মাধ্যমে আপনার পছন্দ অনুযায়ী একটি অনলাইন জব করতে পারবেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে পার্ট টাইম জব করে অনলাইন থেকে ইনকাম করি। যেগুলো আমার অতিরিক্ত ইনকাম হিসেবে জমা হয়। আপনার যদি ইতিমধ্যে চাকরি থাকেন, তাহলেও আপনি এই কাজটি করতে পারেন। যদি আপনি সম্পূর্ণ বেকার হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই মনোযোগ দিয়ে এ আর্টিকেলটি পড়ুন।

এই আর্টিকেলটিতে আপনার অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির সহ ফুল টাইম চাকরি সকল তথ্য রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আপনি এখান থেকে উপকৃত হতে পারবেন।

ঘরে বসে পার্ট টাইম জব

আপনার বাসা বাড়িতে বসে আপনি যে সকল কাজ করতে পারেন, সে সকল কাজগুলোই হচ্ছে অনলাইন জব। আর এই কাজগুলো আপনি ঘরে বসে পার্ট টাইম জব হিসেবে করতে পারেন, অথবা ফুল টাইম হিসেবে করতে পারেন। যেটা আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। তবে যাই হোক এই আলোচনাটি যদি আপনি মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকেন, তাহলে আপনি ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করে অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারবেন।

ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করার যে সকল উপায় রয়েছে সে সকল উপায় নিয়ে আমরা আজকের এই আর্টিকেলটি সাজিয়েছি। এছাড়াও আমরা আমাদের এই ওয়েবসাইটের মধ্যে বিভিন্ন ঘরে বসে অনলাইন ইনকামের পদ্ধতি গুলো শেয়ার করতে থাকব। যার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রী এবং বেকাররাও চাকরির পাশাপাশি এ সকল কাজগুলো করে অতিরিক্ত টাকা অনলাইন থেকে উপার্জন করতে পারে।

আরও পড়ুন:   ৫টি টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় এবং টিপস

ঘরে বসে ইনকাম করার ৫টি সুযোগ

চলুন তাহলে এমন ৫টি সুযোগ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যেগুলোর মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করা যায়। যে সকল সুযোগ গুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব, এই সুযোগগুলো থেকে যেকোনো একটি সুযোগ আপনি ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।

চাইলে আপনি আপনার চাকরির পাশাপাশি এই আর্টিকেলে আলোচিত যে কোন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারেন, অথবা আপনি ফুল টাইম জব হিসেবে এখান থেকে যেকোনো একটি মাধ্যম বাছাই করে অনলাইনে কাজ করতে পারেন।

আমি ব্যক্তিগতভাবে অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করার বিষয়টিতে স্বাধীন মনে করি। এবং এটাতে আপনি নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এবং নিজের মত করে সকল কাজ করতে পারবেন। তাই এখান থেকে কিভাবে আপনি ইনকাম করবেন? কত টাকা ইনকাম করবেন? সে বিষয়টি নিজের উপরেই নির্ভর করবে। চলুন তাহলে এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আমরা জেনে নিই।

ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে করে আয়:

ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে বর্তমান সময়ে প্রসিদ্ধ একটি অনলাইন বিজনেস করা যায়। তবে আপনি যদি অনলাইনে পার্ট টাইম জব হিসেবে কাজ করতে চান, এক্ষেত্রেও আপনি বিভিন্ন ডিজিটাল প্রোডাক্টের মালিকের হয়ে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার, অথবা রিসেলার হিসেবে কাজ করতে পারেন। যার মাধ্যমে অনলাইন থেকে ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে যথেষ্ট ভালো টাকা উপার্জন করা সম্ভব।

অনেকগুলো ক্যাটাগরির ডিজিটাল প্রোডাক্ট রয়েছে। ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রির বর্তমান সময়ে অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ডিজিটাল প্রোডাক্ট হিসেবে অনেকগুলো জনপ্রিয় সফটওয়্যার রয়েছে। অনেকগুলো অনলাইন টুলস রয়েছে। আবার অনেকগুলো সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন টুলস রয়েছে। যেগুলো ব্যবহারকারীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।

এসকল টুলস গুলো নিয়ে যদি আপনি রিসেলার হিসেবে কাজ করেন, অথবা এফিলিয়েট মার্কেটিং করেন, তাহলে এর ডিজিটাল প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করে ভালো ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইন বিজনেস করার জন্য অবশ্যই আপনার একটি প্লাটফর্ম থাকা প্রয়োজন হয়। এমনকি কাজ করার জন্য একটি প্লাটফর্ম থাকতে হবে। যদি আপনি ডিজিটাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান, তাহলে আপনি ডিজিটাল প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করার জন্য বিভিন্ন ফোরাম ওয়েবসাইটে মার্কেটিং করতে পারেন।

আপনার একটা ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে সেগুলোকে প্রমোট করতে পারেন, অথবা আপনি চাইলে নিজের একটি ওয়েবসাইট করে নিতে পারেন। যার মাধ্যমে আপনি অনলাইনে কাজ করে একটি প্যাসিভ ইনকাম তৈরি করতে পারবেন।

ভিডিও কোর্স করিয়ে ঘরে বসে পার্ট টাইম জব:

বর্তমান সময়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসেই ভিডিও কোর্স করে ঘরে বসে পার্ট টাইম জব হিসেবে ইনকাম করা যায়। আপনার যদি কোন বিষয় নিয়ে দক্ষতা থাকে, তাহলে সে বিষয়টি অনলাইনেই আপনার ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন। অথবা আপনি চাইলেই ভিডিওর মাধ্যমে সে কোর্স রেকর্ড করেই বিক্রি করতে পারেন।

আরও পড়ুন:   ৭টি জনপ্রিয় অনলাইন ইনকাম সাইট - 2024

আপনার হাতে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আপনি যেকোনো ভিডিও কোর্স তৈরি করতে পারবেন। যদি আপনি প্রফেশনাল অনলাইনে টিউটোরিয়াল কোর্স তৈরি করতে চান, তাহলে আপনার একটি ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার থাকা প্রয়োজন। অনলাইনে নিজের পছন্দমত কাজগুলো করার জন্য একটা ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার প্রয়োজন হয়। সে সাথে দ্রুতগতির ইন্টারনেট থাকা প্রয়োজন।

যদি আপনার কাছে ভালো ইন্টারনেট থাকে এবং একটি ভালো কনফিগারেশন, অথবা মিডিয়াম কোয়ালিটির ল্যাপটপ, অথবা কম্পিউটার থাকে, তাহলে আপনি নিজের ভিডিও কোর্স তৈরি করে বিভিন্ন প্লাটফর্মে বিক্রি করতে পারেন।

ভিডিও কোর্স বিক্রি করার জন্য চাইলে নিজের একটি ওয়েবসাইট করে নিতে পারেন, অথবা আপনি ইউডেমি, কোর্সেরা, টেন মিনিট স্কুল ইত্যাদি প্লাটফর্ম গুলোর মাধ্যমে আপনার ভিডিও কোর্স বিক্রি করে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটিং (ঘরে বসে পার্ট টাইম জব করে আয়):

Facebook বিজ্ঞাপন হল Facebook-এ আপনার ব্যবসার প্রচার করার সেরা উপায়। এটি নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর, আপনার গ্রাহক বেস বাড়ানো এবং বিক্রয় চালানোর একটি দুর্দান্ত উপায়।

একটি Facebook বিজ্ঞাপন তৈরি করার প্রক্রিয়ার জন্য আপনাকে সময় এবং অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। আপনার একটি Facebook অ্যাকাউন্ট এবং একটি সক্রিয় বাজেটের প্রয়োজন হবে, যা আপনি www.facebook.com/ads/ এ বিনামূল্যে ট্রায়ালের জন্য সাইন আপ করে তৈরি করতে পারেন৷ বিজ্ঞাপন তৈরি করা শুরু করতে আপনি আপনার প্রধান ড্যাশবোর্ডে “বিজ্ঞাপন তৈরি করুন” বিকল্পটিও ব্যবহার করতে পারেন৷

একবার আপনি আপনার বিজ্ঞাপন তৈরি করে ফেললে, প্রচারের প্রতিটি পর্যায়ে এটি কেমন দেখায় এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা কাস্টমাইজ করতে আপনি বিভিন্ন ফিল্টারের মাধ্যমে এটি চালাতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে আপনার শ্রোতার আকার নির্বাচন করা, কীওয়ার্ড টার্গেট করা, Facebook-এ (ডেস্কটপ বা মোবাইলে) বিজ্ঞাপনগুলি কোথায় প্রদর্শিত হবে তা বেছে নেওয়া এবং আরও অনেক কিছু!

আপনি একবারে একাধিক বিজ্ঞাপন সেট আপ করতে পারেন। এবং প্রয়োজনে সেগুলি একসাথে চালাতে পারেন। যাতে আপনি বিভিন্ন দর্শকের সাথে প্রতিটির বিভিন্ন বৈচিত্র পরীক্ষা করতে পারেন৷

ব্লগিং করে আয় করুন

লেখালেখি এবং ব্লগিং করে টাকা আয় করতে পারবেন। অর্থ উপার্জন শুরু করার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। আপনার যা দরকার তা হল আপনার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, মতামত, অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান বিশ্বের সাথে লিখতে এবং ভাগ করার ইচ্ছা।

লেখালেখিকে বলা হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলির মধ্যে একটি। যা কেউ তাদের জীবনের জন্য করতে পারে।

আরও পড়ুন:   কলেজের খবর এবং আপডেট প্রকাশ করে ৪টি উপায়ে টাকা ইনকাম

আপনি যদি একজন ভাল লেখক হন এবং আপনার কিছু বলার বা শেয়ার করার মতো আকর্ষণীয় কিছু থাকে, তাহলে আপনার লেখার প্রতিভা থেকে অর্থ উপার্জন শুরু করার সময় হতে পারে।

আপনি যদি আপনার ব্লগকে নগদীকরণ করতে চান, তাহলে আপনি পেইড গেস্ট পোস্টিং বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। এই দুটি বিকল্প হল আপনার ব্লগ থেকে বেশি ও ভিন্নভাবে অর্থ উপার্জন করার সবচেয়ে সহজ উপায়।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগারের মতো একটি স্ব-হোস্টেড প্ল্যাটফর্মে আপনার নিজের ব্লগ হোস্ট করেন, তাহলে আপনি বিজ্ঞাপন, অধিভুক্ত লিঙ্ক এবং স্পনসরশিপের মাধ্যমে আপনার সামগ্রী সহজেই নগদীকরণ করতে পারেন৷ আপনার যদি অনেক বেশি ফলোয়ার থাকে এবং নিয়মিতভাবে উচ্চ মানের কন্টেন্ট প্রকাশ করে যা লোকেরা প্রশংসা করে, তাহলে এটি অর্থ উপার্জনের একটি কার্যকর উপায়।

যাইহোক, যদি আপনার এখনও বড় ফলোয়ার না থাকে, তাহলে একা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে অর্থ উপার্জন করা কঠিন হতে পারে। যাইহোক, অন্যান্য পদ্ধতি রয়েছে। যা আপনাকে বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপ সম্পর্কে চিন্তা না করেই আপনার ব্লগ থেকে আয় করতে সাহায্য করতে পারে।

কন্টেন্ট রাইটার বা লেখক হিসেবে ঘরে বসে পার্ট টাইম জব

একজন ফ্রিল্যান্স লেখক হিসেবে আপনি স্বাধীন প্রকাশকদের বিশ্বের বৃহত্তম নেটওয়ার্কের একটি অংশ হতে পারেন। আপনি যে কোনও ওয়েবসাইট বা ব্লগের জন্য লিখতে সক্ষম হবেন, তবে আপনার নিজের পোর্টফোলিও তৈরি করার, নতুন বাজারে পৌঁছানোর এবং এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ প্রদানের সুযোগও থাকবে।

ফ্রিল্যান্স রাইটিং হল একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবসা যেখানে স্বপ্নদর্শী এবং ক্যারিয়ার পরিবর্তনকারীদের জন্য সমান সুযোগ রয়েছে। এটি অনলাইনে অর্থ উপার্জনের সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি এবং এটি অবশ্যই চেষ্টা করার মতো!

কোন সন্দেহ নেই যে আমাদের প্রত্যেকেরই আমাদের জীবনযাত্রার উন্নতির জন্য কিছু অতিরিক্ত নগদ টাকা উপার্জন প্রয়োজন। বাড়িতে কাজ করা একটি প্রবণতা যা সমস্ত তরুণদের মধ্যে বিখ্যাত হতে পারে। গৃহভিত্তিক পরিবেশে খণ্ডকালীন চাকরি করা তাদের ব্যস্ত সময়সূচী সহ ছাত্র এবং ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা আদর্শ, যারা পড়াশোনা এবং পেশাগত জীবনের মধ্যে তাদের সময় পরিচালনা করা অসম্ভব বলে মনে করেন।

অন্যদিকে, বাড়ি থেকে কাজ করা তাদের জন্য ফলপ্রসূ প্রমাণিত হতে পারে যাদের পরিবার রয়েছে, কারণ তাদের ক্যারিয়ার অনুসরণ করার সময় তাদের কোন পরিবহন খরচ বা ড্রেস কোড সম্পর্কিত সমস্যা বহন করতে হবে না।

মন্তব্য করুন