ব্যাংকে টাকা জমানোর নিয়ম

যারা ব্যাংকে টাকা জমাতে চান, তাদের জন্য আমাদের এই আজকের এই গাইডলাইন। যদি আপনি এই গাইডলাইন অনুসরণ করেন, তাহলে ব্যাংকে টাকা জমানোর সঠিক নিয়ম আপনি জানতে পারবেন। আমরা যারা ব্যাংকে টাকা জমা করি তারা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল জায়গায় টাকা জমা রেখে দিই। যার কারণে আমাদের টাকাগুলোর কোন মান বৃদ্ধি পায় না।

আজকে আমি আপনাদের এমন কিছু আইডিয়া শেয়ার করব যে গুলো অনুসরন করলে আপনাদের ব্যাংকে জমানো টাকার মান বৃদ্ধি পাবে। এবং এখান থেকে আপনাদের জিডিপির মান কমবে না।

ব্যাংকে টাকা জমা রাখার আগেই আপনাকে যেটা বুঝতে হবে:

ব্যাংকে টাকা জমা রাখার আগেই বুঝতে হবে
ব্যাংকে টাকা জমা রাখার আগেই বুঝতে হবে

বর্তমান সময়ে ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতি নির্বাচন করতে না পারেন, তাহলে আপনার জমানো টাকার মান কখনো বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। সাধারণত বর্তমান সময়ে ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের হিসাব খোলা যায়। এই হিসাবগুলো খোলার সময় আপনাকে অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। কোন হিসাব খোলার সময় কি ধরনের লাভবান আপনি হতে পারেন সে বিষয়ে।

ব্যাংক সঞ্চয়ী হিসাব করার আগেই ব্যাংক নির্বাচন করুন

সঠিক একটি ব্যাংক নির্বাচন করা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি সঠিক ব্যাংক নির্বাচন করতে না পারেন, তাহলে আপনার টাকা গুলো আপনি সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারবেন না। এইজন্য যখন আপনি একটি ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাব করার চিন্তাভাবনা করবেন, তখন আপনি প্রথমেই চিন্তা করবেন কোন ব্যাংক আপনাকে কিরকম সুবিধা দিচ্ছে সে বিষয়ে।

ব্যাংক নির্বাচন করুন
ব্যাংক নির্বাচন করুন

আর ব্যাংক কিরকম সুবিধা দিচ্ছে তা বর্তমান সময়ে অনলাইনে আপনি সবকিছু অনলাইনে জানতে পারবেন। কারণ প্রতিটি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। সেই ওয়েবসাইটগুলোতে ভিজিট করে আপনি তাদের কি কি ধরনের হিসাব খোলার সুবিধা রয়েছে সেগুলো দেখতে পারেন। এবং কোন হিসাব ওপেন করলে কি ধরনের ইন্টারেস্ট দিচ্ছে? সে বিষয়টি যাচাই করুন।

আরও পড়ুন:   সহজ পদ্ধতিতে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার নিয়ম

সাধারণ সেভিং হিসাব করে টাকা সঞ্চয় করবেন না:

সাধারণত অনেকেই ব্যাংকে সাধারণ হিসাব করে সেভিং করতে শুরু করে। এক্ষেত্রে আপনার টাকা গুলো তে যদি সঠিক ব্যাবহার না হয়, তাহলে আপনার টাকা গুলোর মান দিন দিন কমতে থাকবে। আমরা যে সেভিং হিসেব করে থাকি সে সেভিং হিসেব গুলো থেকে প্রতিবছর ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কেটে নেয় টাকার সংরক্ষণের জন্য।

আবার অন্যদিকে অনেকেই বাৎসরিক মুনাফার ভিত্তিতে ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করে থাকেন। এই ক্ষেত্রে যদি আপনার ৫ থেকে ৬ পার্সেন্ট হারে প্রফিট দেওয়ার কথা বলা হয়ে থাকে, তাহলে আপনি আপনার টাকা জমা রাখতে পারেন। কিন্তু মনে রাখবেন এরপরে গিয়েও আপনাকে অবশ্যই কিছু টাকা লোকসান গুনতে হবে। যদি আপনি বর্তমান সময়ে কিছু পরিমাণ টাকা জমা রাখেন। সে পরিমাণ টাকা ভবিষ্যতে গিয়ে একই রকম মান ফিরে পাবেন না।

সেভিং হিসাব করে টাকা সঞ্চয় করবেন না
সেভিং হিসাব করে টাকা সঞ্চয় করবেন না

কিভাবে টাকার মান ভবিষ্যতে কমতে থাকে? সে বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। আমাদের আরেকটি টাকা ইনভেস্ট করার উপায় সম্পর্কে আলোচনার মধ্যে। কোন জায়গায় আপনি টাকা ইনভেস্ট করতে পারেন সে বিষয়টিও জানার জন্য সেই লেখা টি পড়তে পারেন।

এবং সেখান থেকে আপনি জেনে নিতে পারেন ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করলে কিভাবে আপনার টাকা মান কমে যায়? সে বিষয়ে। আপনি ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে হয়তো ভালো একটি জায়গায় আপনার টাকা গুলো কে বিনিয়োগ করতে পারবেন। যেখান থেকে আপনি ব্যাংকের চেয়ে ডাবল মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। এবিষয়ে উক্ত পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:   ১০টি টাকা বিনিয়োগ করার স্মার্ট উপায় | ✔ Easy Investment

সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার উপায়

আপনার যদি মনে হয় ব্যাংকে অবশ্যই আপনার টাকা গুলো সঞ্চয় করতে হবে, তাহলে আপনি এমন একটি সেক্টর নির্বাচন করুন। যেখান থেকে আপনি ভাল পরিমাণের একটি প্রফিট পাবেন। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে ব্যাংক আপনাকে যেন দ্বিগুন মুনাফা প্রদান করে, সে বিষয়টি আপনাকে চিন্তা করতে হবে। আমরা যখন স্কুলে পড়াশোনা করেছিলাম, তখন কিছু ম্যাথ করতাম যে, সাধারণ মুনাফা প্রদান আরেকটা হচ্ছে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা প্রদান।

যদি ব্যাংক আপনাকে বলে চক্রবৃদ্ধি মুনাফা প্রদান করে, তখন আপনি সে ব্যাংকের মধ্যে টাকা সঞ্চয় করতে পারেন। কারণ সাধারন মুনাফা ক্ষেত্রে আপনার টাকা গুলো শেষ পর্যন্ত গিয়ে কিছু প্রফিট আপনার হাতে দেখা গেলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সে টাকা গুলোর মান কমে গেছে। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে সেই জমাকৃত টাকার যে মান রয়েছে, সেটা আপনি ভবিষ্যতে খুঁজে পাবেন না।

সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার উপায়
সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাংকে টাকা জমা রাখার উপায়

কিন্তু আপনি যদি চক্রবৃদ্ধি মুনাফা আদায় করতে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে গিয়ে আপনার টাকাগুলোর একটা নির্দিষ্ট মান তৈরি হবে। অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধি মুনাফা বলতে ব্যাংক যখন আপনাকে এক বছরে ১০ হাজার টাকা প্রফিট দিবে পরবর্তী বছরে সে প্রফিটের টাকার উপরেও আপনাকে প্রফিট দিতে হবে।

অর্থাৎ মনে করুন আপনি ব্যাংকের মধ্যে আজকে এক লক্ষ টাকা জমা রেখেছেন। এবং আবার আগামী এক বছর পরে আপনাকে ব্যাংক এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দিচ্ছে।

এক্ষেত্রে আপনি যদি আপনার টাকাগুলো ব্যাংক থেকে উত্তোলন না করেন, তাহলে পরবর্তী বছরে আপনাকে ব্যাংক এক লক্ষ দশ হাজার টাকার চক্রবৃদ্ধি মুনাফা প্রদান করবে। অর্থাৎ ১ লক্ষ টাকায় যদি ১০,০০০ টাকা মুনাফা পাওয়া যায়। এক লক্ষ দশ হাজার টাকায় আপনাকে ১২ হাজার টাকা মুনাফা প্রদান করবে আপনার ব্যাংক।

আরও পড়ুন:   ৫টি বিশ্বস্ত টাকা ডিপোজিট করার উপায়

ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করার বিষয়ে আপনাদের অজানা বিষয়ে প্রশ্ন করুন:

সম্মানিত পাঠক, আমরা আমাদের এই লেখার মধ্যে আপনাদের কে বোঝানোর চেষ্টা করেছি ব্যাংকের সঠিকভাবে টাকা সঞ্চয় করার নিয়ম সম্পর্কে। যদি আপনারা এখনও কিভাবে ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করলে সেখান থেকে লাভবান হওয়া যায়? সে বিষয়ে না বুঝেন, তাহলে আপনাদের অজানা প্রশ্ন গুলো আমাদের করতে পারেন।

আমরা আপনাদের প্রশ্নগুলোর সঠিক ভাবে উত্তর প্রদান করে আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করব। এই লেখাতে যদি কোনো ধরনের ভুল ত্রুটি করে থাকি, সে বিষয়টি আমাদেরকে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে অভিহিত করবেন। যেন আমরা সঠিকভাবে আপনাদেরকে কনটেন্ট সরবরাহ করতে পারি।

2 thoughts on “ব্যাংকে টাকা জমানোর নিয়ম”

  1. অনলাইন থেকে ইনকাম ব্লগিং করে এসইও করে ইনকাম সম্পর্কে জানতে নিচের লিংকে জান https://earnbangla.com/

    Reply

Leave a Comment