ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা শুরু করার সঠিক গাইডলাইন

পৃথিবী ধংস হওয়ার একটু আগেও খাবারের চাহিদা কমবেনা। তাই আপনি এমন একটা ব্যবসা শুরু করতে পারেন যেটার চাহিদার কোনো কমতি নেই এবং লোকসানের কোনো ঝুঁকি নেই। ফুড কার্ট ব্যবসা অনেক আগে থেকে জনপ্রিয়। এটি বিভিন্ন এরিয়া ও প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক হয়ে আসছে। কিন্তু আপনি চাইলে পুরো একটা শহর কেন্দ্রিক ফুড কার্ট ব্যবসা শুরু করতে পারলে।

ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা শুরু করার মাধ্যমে পুরো একটা শহর জুড়ে ব্যবসা করা সহজ। আজকের ভিডিওতে কিভাবে ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা শুরু করা যায় তা নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন শেয়ার করবো।

ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা শুরু করার নিয়ম:

  1. এই ব্যবসা শুরু করার নিয়ম হচ্ছে প্রথমে আইটেম নির্বাচন করা
  2. উৎস ও উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
  3. একটা অনলাইন স্টোর সেটআপ করা
  4. কাস্টমারের হাতে খাবার ডেলিভারির ব্যবস্থা করা।

১. প্রথমে আমরা আইটেম নির্বাচন নিয়ে কথা বলি:

খাবারের আইটেম নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ধাপ৷ ফুড কার্ট ব্যবসায় সাধারণত এমন খাবার গুলো তৈরি করা হয় যেগুলো বেশিদিন স্থায়ী না। অর্থাৎ তৈরি করার কিছুক্ষণের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। আপনি যেহেতু ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা করবেন।

আরও পড়ুন:   রিসেলার ব্যবসা: অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য সেরা বিজনেস

সুতরাং আপনার এমন খাবার আইটেম গুলো নির্বাচন করা প্রয়োজন যেগুলো তৈরি করার পর কমপক্ষে ৩ ঘন্টার বেশি সংরক্ষণ করা যায়। তেলের নাস্তা, হাতের তৈরি নাস্তা, জুস ইত্যাদি খাবার নিয়ে ব্যবসা শুরু করা যায়।

ক্রিয়েটিভ কোনো খাবারের আইডিয়া তৈরি করতে পারলে আপনি ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি হবেন একজন কোনটি টাকার ব্যবসায়ী। মনে হতে পারে অর্ডার কতখানি আর আসবে! সত্যি বলতে ডেলিভারি করে কুল পাবেন না।

২. উৎস ও উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা

পরিবারের জন্য পণ্য ক্রয় করা আর ব্যবসার জন্য করার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের জন্য যে খাবার তৈরির পণ্য ক্রয় করবেন তা বেশি দামে ক্রয় করতে হয়। কারণ এটি খুচরো ক্রয়। আর যদি ব্যবসা করার জন্য পণ্য ক্রয় করবেন তখন পাইকারি দামে পণ্য ক্রয় করতে হবে। এজন্য আপনার ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসার খাবার তৈরির জন্য সহজ এবং পাইকারি বাজার নির্বাচন করুন। পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মানের দিকে বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। পণ্যের মান ভালো হলে খাবারের মান ভালো হবে।

সঠিক উৎস ঠিক করা হয়ে গেলে উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রেতারা যেহেতু অনলাইন থেকে আপনার খাবার অর্ডার করবে। সুতরাং আপনার খাবার তৈরির জায়গা অনেক ব্যয়বহুল করে ডেকোরেশন করার প্রয়োজন নেই। তবে পরিস্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. একটা অনলাইন স্টোর সেটআপ করতে হবে

ক্লাউড ব্যবসা তখন হয় যখন ক্রেতা আপনার কাছে না এসে পণ্য ক্রয় করতে পারেন। এটার জন্য একটা ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ সেটআপ করা প্রয়োজন। অ্যাপ তৈরিতে খরচ বেশি হতে পারে। সুতরাং আপনার ব্যবসার শুরুতে একটা ওয়েবসাইট দিয়ে শুরু করতে পারেন

আরও পড়ুন:   ভার্চুয়াল সহকারী বিজনেস গাইড ও Virtual Assistant Business টিপস

বর্তমানে ওয়েবসাইট কে API দিয়ে মোবাইল অ্যাপে কনভার্ট করা যায়। ব্যবসা উন্নতির দিকে যেতে শুরু করলে এবং কাস্টমার বৃদ্ধি পেতে শুরু করলে আপনার ওয়েবসাইটটি মোবাইল অ্যাপে কনভার্ট করে নিন।

ওয়েবসাইটটি খুবই সিম্পল এবং সহজভাবে ব্যবহার উপযোগী করে সেটআপ করুন। অনেক বেশি চাকচিক্যময় ওয়েবসাইটে ক্রেতাদের চোখের সমস্যায় বিগ্ন ঘটাতে পারে। ফলে ক্রেতা অর্ডার না করে ফিরে যেতে পারে।

বেশি টাকা বিনিয়োগ করে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রয়োজন নেই। এখন ৫ থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে সিম্পল একটা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

ওয়েবসাইট তৈরির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন WhatsApp – এ।

৪. কাস্টমারের হাতে খাবার ডেলিভারির ব্যবস্থা করুন:

ফুড কার্ট ব্যবসা এমন একটা ব্যবসা৷ আপনি শুরু করলে অর্ডার আসবেই। ক্রেতা নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তবে খাবার ডেলিভারি করার জন্য উন্নতমানের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। দেখতে ভালো লাগে এমন একটা প্যাকেট দিয়ে খাবার ডেলিভারি করুন। আপনার খাবার ডেলিভারি করার জন্য পাঠাও বা ফুড পান্ডার মতো ফুড ডেলিভারি কোম্পানির সার্ভিস নিতে পারেন। এতে করে আপনার বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

যেহেতু নিজের একটা ক্লাউড স্টোর দিয়েও ব্যবসা করবেন। এজন্য নিজের কয়েকজন ডেলিভারিম্যান রাখতে পারেন বা আপনার শহরের মধ্যে যারা ডেলিভারি সার্ভিস দিচ্ছে তাদের সার্ভিস নিতে পারেন।

আশাকরি ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসা আইডিয়াটি আপনাদের পছন্দ হয়েছে। এমন একটা ব্যবসা পড়াশোনা বা চাকরির পাশাপাশিও করা যেতে পারে। এই ব্যবসাটি ঘরে বসে সহজে পরিচালনা করা যাবে। ছেলে বা মেয়ে উভয়ে এই ক্লাউড ফুড কার্ট ব্যবসাটি করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন