ফ্রিল্যান্সারদের ১০টি বৈশিষ্ট্য

ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য সবারই স্বপ্ন থাকে। যদি আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হতে চান, তাহলে এই ১০টি মজার বৈশিষ্ট্য আপনার জেনে রাখা উচিত! আজকের এই লেখাতে আমি আপনাদের সাথে ফ্রিল্যান্সারদের ১০টি বৈশিষ্ট্য আপনাদের সাথে শেয়ার করব। আশা করতেছি এই ১০টি বৈশিষ্ট্য আপনারা পছন্দ করবেন এবং আপনাদের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য গুলো রয়েছে কিনা সেটা অবশ্যই মিলিয়ে দেখবেন।

১। সবকিছুর চাইতে Buyer Work বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন

ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই বায়ারদের কে সন্তুষ্ট রাখতে হবে। এই জন্য যারা ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন, তারা সবসময়ই বায়ার এর কাজকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

কেনই বা দিবে না। কারণ বায়াররাই তো সব। যদি বায়ারদের কে আপনি সন্তুষ্ট করতে না পারেন, তাহলে কোন ভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং জগতে ভালো করতে পারবেন না। এইজন্য ফ্রিল্যান্সাররা সবসময় বায়াদেরকে খুশি রাখার জন্য অতিরিক্ত সার্ভিস দিয়ে থাকে। অনেক সময় কম টাকায় যদি ভাল সার্ভিস দিতে পারেন, তাহলে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি।

২। এরা ঘুমায় সকাল ৭-৮ টায় উঠে সকাল ১১-০১টায়

ঘুমের স্বভাব

রাত জেগে কাজ করাটাই হচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের স্বভাব। মূলত রাতের দিকে যেহেতু আমেরিকা-ইউরোপের মত দেশগুলোর বায়াররা জেগে থাকেন। সেজন্য আমাদেরকে কাজ ডেলিভারি করতে ফ্রিল্যান্সারদেরকে রাতের বেলায় না ঘুমিয়ে থাকতে হয়।

আরও পড়ুন:   ক্রেতার পছন্দসই নতুন স্যামসাং মোবাইল - ২০২২

এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সাররা সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ঘুমাতে বেশী পছন্দ করে। এবং দুপুর ১২ টা থেকে ১টার মধ্যে আবার ঘুম থেকে উঠে পড়েন।

এটা একটা স্বাভাবিক রুটিনে পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। কারণ বাংলাদেশের টাইম এর সাথে ইউরোপ-আমেরিকার টাইম জোনের সাথে কোনভাবেই মিল নেই। এজন্য তাদের অফিস টাইম এর সময় বাংলাদেশ জেগে থাকতে হয় বায়ারদের সার্ভিস দেওয়ার জন্য।

৩। এদের প্রধান উক্তি, “Money Can Buy Happiness”

ফ্রিল্যান্সারদের একটা উক্তি হচ্ছে  “Money Can Buy Happiness”। এটা আসলেই যে সত্য আমি সেটা বলতে পারি। কারণ টাকা ছাড়া আপনি বর্তমান সময়ে কোন ভাবে সুখী হতে পারবেন না। এজন্য যদি আপনি সুখী থাকতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনার টাকার প্রয়োজন। কারণ টাকা দিয়েই আপনি আপনার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারেন।

তবে আমি এমনটা বলছিনা যে বাস্তবতায় টাকাই সব কিছু। মূলত বাস্তব পরিস্থিতির উপরেই নির্ভর করে ফ্রিল্যান্সাররা এ বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। কারণ এত কষ্ট করে যদি বায়ােদরদের কাছ থেকে পারিশ্রমিক ভালো পাওয়া না যায়, তাহলে কিন্তু মনটা একেবারেই সুখী থাকতে পারেনা। এজন্য সুখী থাকার জন্য ভালো মানের সার্ভিস দিয়ে বেশি টাকা বায়ারের কাছ থেকে আশা করে থাকেন।

৪। এরা একটানা ৮ থেকে ১২ ঘন্টা পিসির সামনে বসে থাকতে পারে

কম্পিটারের সামনে বসা
কম্পিটারের সামনে বসা

ফ্রিল্যান্সাররা বাঘের মত একটানা ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে পারে। আসলে বসে থাকতে পারে এমনটা বললে ভুল হবে, তাদেরকে বাধ্য হয়ে বসে থাকতে হয়।

বিদেশি বায়ারদের টাইম জোনের উপর নির্ভর করে যেহেতু সার্ভিস প্রধান করতে হয়, সেহেতু ফ্রিল্যান্সারদের কে রাত জেগে নির্দিষ্ট টাইমের জন্য অপেক্ষা করে বায়ারদের কাজ বুঝিয়ে দিতে হয়।

৫। এরা খাবার ব্যতিত থাকতে পারবে কিন্তু ইন্টারনেট ব্যতিত ১ মিনিট থাকতে পারবে না।

বিষয়টি হয়তো আপনাদের হাস্যকর মনে হতে পারে তবে এটা সত্যি বাস্তব। যারা ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কাজ করে থাকেন, তারা ইন্টারনেট ছাড়া কখনই থাকতে পারে না। ইন্টারনেট নেই মানে তারা অসহায়। 

আরও পড়ুন:   টেসলার থেকে ভালো চালকবিহীন গাড়ি নিয়ে আসছে অ্যাপল, হবেনা বমি

ফ্রিল্যান্সারদের একদিন খাবার না দিয়ে রেখে দিতে পারবেন, তবে ইন্টারনেট সংযোগ না দিয়ে রাখতে পারবেন না। তাই যদি ফ্রিল্যান্সারদেরকে খুশি রাখতে চান, তাহলে অবশ্যই তাদের ইন্টারনেট গিফট করতে পারেন।

৬। কাজ করার সময় যদি এদেরকে কফি দেওয়া হয় কফি কখন যে শরবত হয়ে যায় এরা নিজেরাও জানে না।

আমার মা বিভিন্ন সময় আমাকে বকা দিয়ে থাকেন। কারণ খাবার দিলে খাবারটা আমি সঠিক টাইম এর মধ্যে শেষ করতে পারি না এইজন্য। আপনারা হয়তো মনে করতে পারেন আমি খাবার ধীরে ধীরে খেয়ে শেষ করতে পারি না। তবে এমনটা নয়। আসলে কাজ করার মধ্যে দিয়ে যখন আমার টাইমটা পার হয়ে যায়, তখন খাবারের বিষয়টা আমার মনে থাকেনা।

শুধুমাত্র আমারটা বললে হবেনা সকল ফ্রিল্যান্সারদের এই সমস্যা হয়ে থাকে। কখন যে খাবার টেবিলের খাবারগুলো ঠান্ডা হয়ে যায়। টেবিলের উপর দেওয়া চায়ের কাপ কখন যে শরবত হয়ে যায় এটা আসলে ফ্রিল্যান্সাররা বুঝতে পারেনা। এজন্য বলা হয় ফ্রিল্যান্সারদেরকে যে কফিটা দেওয়া হয়, সে কফি কখন যে শরবত হয়ে যায় সেটা তারা বুঝতে পারে না।

৭। ফ্রিল্যান্সাররা সাধারনত শান্ত প্রকৃতির হয়।

যেহেতু অনলাইনে ফ্রিল্যান্সারদের কি কাজ করতে হয়, সেহেতু কারো সাথে ঝগড়া ঝাটি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই থাকে না। শুধুমাত্র বায়ারদের কে সঠিকভাবে কাজ ডেলিভারি করতে পারলেই ফ্রিল্যান্সারদের দায়িত্ব শেষ।

এজন্যই ফ্রিল্যান্সাররা সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়ে থাকেন। কারণ বায়ার এর সাথে মজার বিষয় নিয়ে কথা বলতে ফ্রিল্যান্সাররা পছন্দ করেন। যেন বায়ার তার কমিউনিকেশন সিস্টেমটাকে ভালোবাসে।

৮। ফ্রিল্যান্সারদের মোবাইলে কখনোই চার্জ থাকে না।

মোবাইলে চার্জ না থাকা
মোবাইলে চার্জ না থাকা

এটি ফ্রিল্যান্সারদের অসাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য। ফ্রিল্যান্সারদের কে যখনই আপনি প্রশ্ন করবেন মোবাইলে চার্জ কত পারসেন্ট রয়েছে, তখনই দেখবেন তার মোবাইলে চার্জ নেই। এর কারণটা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের মোবাইলের যেই সফটওয়্যার গুলো রয়েছে সেগুলো মোবাইলের ব্যাটারির উপরে অনেকটা নির্ভর করে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন:   ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের নিয়ম ও ইনস্টাগ্রাম বায়ো লিখার গুরুত্ব

তাই ফ্রিল্যান্সারদের মোবাইলের চার্জ খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আর বিশেষ করে যেহেতু তারা সব সময় ইলেকট্রিসিটির আওতাভুক্ত থাকেন। তাই তারা মনে করে মোবাইলে চার্জ যে কোন সময় দেওয়া যাবে। এজন্য মোবাইল বেশিক্ষণ মোবাইল চার্জে দেয় না এবং চার্জ দিতে ভুলে যায়।

৯। এরা যখন কোন কাজ করে তখন যদি এদের পাশে বিশ্বযুদ্ধও হয় তা বুঝতে পারে না।

কাজের এটেনশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি কাজের সঠিক ভাবে মনোযোগ দিতে না পারেন তাহলে আপনার কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য ফ্রিল্যান্সাররা তাদের কাজগুলোতে সঠিক ভাবে মনোযোগ দেওয়ার জন্য এমন ভাবে নিজেকে কাজের প্রতি যুক্ত করেন, যেন তার পাশে কোন বিশ্বযুদ্ধ হলেও সে বুঝতে পারে না।

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি খুবই আশ্চর্য জনক একটি বৈশিষ্ট্য। শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য নয়। প্রতিটি কাজের জন্য এরকম বৈশিষ্ট্য থাকা সবারই প্রয়োজন। যেন আপনি আপনার কাজগুলো সঠিকভাবে মনোযোগ দিয়ে সম্পন্ন করতে পারেন এবং কাজ থেকে ভালো ফলাফল যেন আশা করতে পারেন।

১০। যে কোন উপলক্ষ যে কোন বিশেষ দিন সব দিনেই এরা কাজ করে

আমার দেখা অনেক ফ্রিল্যান্সারদেরকে আমি ঈদের দিনেও কাজ করতে দেখেছি। ঈদ মানেই হচ্ছে খুশি যদিও ফ্রিল্যান্সারদেরকে দিন বা তারিখ ঠিট করে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়।

এইজন্য ঈদের দিনের যদি আপনার কোন প্রজেক্ট ডেলিভারির সময় থাকে, তাহলে আপনাকে ঈদের দিনও কাজ করতে হবে। এটি খুবই মজার তবে অনেক ক্ষেত্রে আপনার খারাপ লাগতে পারে। তবে যদি আপনি একজন দায়িত্ববান ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সঠিক সময়ের মধ্যে বায়ারের কাছে আপনার প্রজেক্টে ডেলিভারি করতে আপনাকে ঈদের দিনও কাজ করতে হবে। 

কাজ করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হলে একজন ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে আপনাকে অনুপ্রাণিত হতে হবে। এটি অনেক ভালো একটি বৈশিষ্ট্য যেটি আপনাকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি মনে করি।

মন্তব্য করুন